নয় দিনের ব্যবধানে সিলেট নগরে চাঞ্চল্যকর দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনাই ঘটেছে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে। দুটরি সিটিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। তবে এ দুটি ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
সবশেষ বৃহস্পতিবার সকালে সাগরদিঘিরে পাড় এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। যদিও পুলিশ বলছে, ছিনতাই নয়, এটি ছিনতাই চেষ্টা ছিলো। ছিনতাইকারীরা কিছু নিয়ে যেতে পারেনি।
এরআগে ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছিনতাইয়ের ঘটনারও সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছিলো। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির পাড়ের ঘটনায়ও শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক মদদ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
যদিও শুক্রবার খোদ শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, যিনি সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্যও, তিনি এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মহানগর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এ দুটি ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সাগরিদিঘির পাড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনার ব্যাপারে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় সিলেট কতোয়ালি থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, সারিদিঘির পাড়ের ঘটনা শোনার পর থেকেই আমি পেছনে লেগে আছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অবশ্যই তাদের ধরা পড়তে হবে।
তিনি বলেন, যে নারী আক্রান্ত হয়েছেন তার সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা কিছু নিতে পারেনি। তাই তিনি মামলা করবেন না। তবু আমরা ছিনতাইকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।
নগরে ছিনতাই বাড়ছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ছিনতাই এখন অনেক কমেছে। কারণ পুলিশ খুব কঠোর অবস্থানে। আমি এখানে যোগ দেওয়ার পর থেকে অনেকগুলো ছিনতাইকারী ধরেছি। সাগরদিঘির পাড়ের এগুলা যে কোথা থেকে এলা! তবে তারা ছাড় পাবে না। আমার থানা এলাকায় ছিনতাইকারী বলতে কিছু থাকবে না।
বৃহস্পতিবার এ ছিনতাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ শুক্রবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুটেজে দেখা যায়, সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক নারীকে পালসার মোটরসাইকেল করে আসা দুই যুবক ঘেরাও করে। যুবকদের হাতে ছিলো দেশিয় অস্ত্র। তারা ওই নারীর মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করার চেষ্টা করে তারা।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, ওই নারী ব্যাগ-মোবাইল- অলংকার দিতে রাজী হচ্ছেন না। ছিনতাইকারীদের সাথে টানাটানি করছেন। এসময় ছিনতাইকারীরা নারীর হাতে অস্ত্র দিয়ে কয়েকবার আঘাতও করে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ছিনিয়ে না নিলেও হাতঘড়ি নিয়ে দ্রুত বাইক নিয়ে চলে যায় ছিনতাইকারীরা।
ওই নারী সিলেটে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
এরআগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ওই সিসিটিভি ফুটেজও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে একটি অটোরিকশা যাচ্ছিলো। তিনটি মোটর সাইকেলে এসে ৬ জন লোক ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর একজচন মোটরসাইকেল থেকে নেমে অটিরিকশার ভেতরে থাকা ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। কিছুক্ষণ টানাহ্যাঁচড়ার পর ব্যাগটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীরা চলে যায়। এসময় অটোরিকশা থেকে নেমে এক নারী চৎিকার করতে দেখা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ওই নারী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা ব্যাগে থাকা তার টাকা ও চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিনিয়ে নেয়।
দিন দুপুরে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ কি না জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের টহল এবং নজরদারিও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান তিনি।
হাউজিং এস্টেটের ঘটনার ব্যাপারে সম্প্রতি মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তারা নগরের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
ছিনতাইকালেদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ মন্ত্রীর : সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।
শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ সুরমায় খোজারখলা মারকাজ জামে মসজিদের অজুখানা ও টয়লেট নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী।
অনুষ্ঠানে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, অল্প কয়েকদিনে সিলেটে দুঃখজনভাবে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনোটি দিনের বেলায়ও ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্টভাবে বলছি- জণগণের প্রত্যাশার বিপরীতে এ ধরনের ঘটনা রোধে যা যা করা দরকার তা করতে যাতে কোনো বিলম্ব করা না হয়। আমরা এ ধরনের আর একটা ঘটনারও পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, সিলেটকে আমরা শান্তির জনপদে পরিণত করতে চাই। তাই এ ধরনের কোনো ঘটনা আমরা সহ্য করব না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব যে বা যারাই এ ধরনের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
এ ধরনের ঘটনা রোধে সচেতন হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খন্দকার মুক্তাদীর বলেন, প্রত্যেকটা পাড়ায় মানুষকে একটু সচেতন থাকতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখতে পেলে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে জানাবেন। তাহলে এ ধরনের ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।
Leave a Reply